Pages

Tuesday, February 26, 2013

বিরহ পূর্ণিমা রাত্রি

গভির পূর্ণিমা রাত্রি।
আমি জেগে আছি।
তুমি কি জেগে আছ?
হয়তো আছ,
নয়তো বা নেই।
চারিদিকে ঝিঁ-ঝিঁ পোকা
ডেকে চলেছে অবিরাম।
নিশাকর মেলেছে তার মায়াজাল
সমগ্র ধরিত্রী ব্যাপি।
হিম মাখা সমীর এসে
জড়িয়ে ধরে সমস্ত শরীর।
নির্জন এই রজনীতে
চুপ-চাপ বসে আছি
ভাবছি অঙ্গনা শুধু তোমারি।

তুমি কি ভাবছ আমারি?
নাকি আনমনে খেলা করছ
কাল্পনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।
তুমি কি গভীর ঘুমে নিমজ্জিত?
নাকি অন্ধকারের ভিতরেও
চোখ চেয়ে আছ উপরে।
নাকি চুপ করে বসে আছ
জলন্ত প্রদীপটা সামনে নিয়ে।
তুমি কি কাগজ-কলম হাতে নিয়েছ?
লিখছো আমাকে চিঠি,
নাকি আঁকছো ছবি
আমাদের বাসর রাত্রির।
নাকি বইয়ের পাতায় চোখ রেখেছ
তবুও পড়ছ না কোন পড়া,
স্মৃতিপটে ভাসছে আমার মুখচিত্র
নাকি ধমাধম পড়ছ
ইতিহাস আর পৌরনীতি,
মিথ্যে করে আমার সকল
ভাবনার ছবি।
তুমি কি জান?
এখন আমি ভাবছি
তোমাকে নিয়ে এত কিছু।
তুমি কি জান?
কত সুখে আছি আমি
তোমাকে ছাড়া।
তুমি কি জান?
তোমাকে ভাবতে-ভাবতে
কেটে যাবে আমার এই রাত্রি।
তুমি কি জান?
তোমাকে না দেখে দেখে
আমার অন্তরটা শুকিয়ে গেছে।
তুমি কি জান?
তোমাকে নিয়ে আমার কল্পনার ইতিকথা।
তুমি কি জান?
তোমাকে নিয়ে এই বুকে কত আশা
কত স্বপ্ন দু'চোখে।
তুমি কি জান?
তোমারি বিরহে অস্থির আমি,
অসহ্য যন্ত্রনায় ভুগছি।
তুমি কি জান?
বইয়ের পাতায় চোখ মেললে
দেখতে পায় তোমার মুখ-ছবি,
মনটা ছটফট করে ওঠে
কাছে পেতে তোমারি।
তুমি কি জান?
বিরহ বেদনায় আমারি অশ্রুজল
গড়ায় চোয়াল বরাবর।
তুমি কি এসবের কিছুই জান না?
হয়তো সবি জান,
হয়তো বা কিছুই জান না।
এখন তুমি কি করছ?
হয়তো পড়ছো একটা চিঠি
যেটা লিখেছিলাম আমি,
নয়তো পড়ছো এই কবিতা
যার শিরোনাম "তুমি"।

নক্ষত্র গুলো ঝিকমিক করল,
যেন সব একসাথে।
হঠাৎ করে পেচার কর্কশ ডাক শুনি,
চমকিয়ে উঠি, ভয় পেলাম বুঝি।
হাতঘড়ির পিক-পিক শব্দে
নজর গেল তার দিকে সব কিছু ফেলে
দেখি, রাত্রি তিনটা।
ঘরে গেলাম ঘুমাতে।
কিন্তু চোখের দু'পাতা এক হতে চায় না,
কষ্টে এ পাশ-ও পাশ করি।
সুধাকর সাক্ষী,
তাকে সুধালে জানা যাবে
কি ঘটেছিল বাকি রাত্রি।
আর জানে ঐ অন্তর্যামী,
জানে সারা রাত্রি।

Monday, February 11, 2013

ভালো ছেলে

আমি বর্ষা চায়না
চাই শুধু মেঘ 
তাও আবার সাদা মেঘ
যেন বকের সারি সেখানে মেলান হয়ে যাই।

আমি আধার চায়না
চাই শুধু রাত
তাও আবার জোত্স্না রাত
যেন তারা গুলো হারিয়ে যাই, শুধু চাঁদ হাসে।

আমি আমাকে চাইনা
চাই আমার মায়ের ছেলেকে
তাও আবার ভালো ছেলে
যেন তার গুঞ্জনে মুখরিত হয় চারিদিক।

Sunday, February 10, 2013

সুখ

তুমি আমাকে ভালবাসতে
এখনও বাস।
তুমি যখন আমাকে ভালোকরে চিনতেনা জানতেনা
তখন থেকেই আমাকে ভালবাসতে,
আমিও তোমাকে।
যখন তুমি কোনো কষ্ট পাইতে,
ঠিক তখনই তুমি আমাকে বেশি বেশি অনুভব করতে
আমি বুঝতাম।
আমি চাইতাম তোমার কষ্টগুলো
আমার সাথে ভাগাভাগি করতে,
তখন সেভাবে আর হয়ে ওঠেনি।

আধার রাতে যখন ঘরে শুয়ে
আকাশের মিটি মিটি করা তারাগুলো
একটা-দুইটা-তিনটা করে গুনতে,
আমিও চাইতাম তোমার পাশের ঐ
খেজুর পাতার পাটিতে শুয়ে,
তোমার সাথে সুর মিলিয়ে তারা গুনতে।
একটা-দুইটা-তিনটা-চা-ঐযে একটা উল্কা।
তবে জোত্স্না রাতেই বেশ মজা করে,
চাঁদ তাকে দেখতে, বলতে
ঐযে চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে।
তখন কিন্তু আমি তোমার পাশে থাকতাম।
তুমি বুঝতে না, হয়তো বুঝতে।

লাইলি যেমন ভালবাসতো মজনুকে,
শিরি ফরহাদকে,
জুলিয়েট রোমিয়কে,
তেমনটাই তুমি আমাকে
না, তার চেয়েও বেশি
তুমি আমাকে ভালবাসতে।
তোমাকেতো কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে
চন্ডিদাস বারো বছর বরশি বইছে 
রজকিনীকে পাওয়ার জন্য।

আমি যখন মিয়া বাড়ীর কারও সাথে
ঘুরতে যেতাম এদিক সেদিক,
তুমি হিংসায় জ্বলে যেতে 
দু'চোখের জল গড়ায়তো অধরায়,
আমি বুঝতাম, চেয়ে চেয়ে দেখতাম।
মনে মনে বলতাম,
দেখো একদিন এমনি করে
তোমার পাশেই থাকব,
তোমাকে ভালোবাসবো,
তোমার ভালবাসার পরশে নিজেকে রাঙাবো।
জানিনা তুমি বুঝতে কিনা।

আমি আসবো,
একদিন ঠিকই ফিরে আসবো,
তোমার কাছে, তোমার পাশে।
তোমার পাশে খেজুর পাতার পাটিতে
শুয়ে দু'চোখ ভরে তারা ভরা আকাশ দেখব।
কিন্তু তখন আর আকাশ দেখা যাবেনা,
একটি তারাও গোনা যাবেনা,
কিরণ উকি দিবে না,
পড়বেনা বর্ষার জল,
দমকা বাতাস এলেও উড়াতে পারবেনা 
একখানি শুখনা মচমচে তালপাতা।
তোমার ঘরেতো আর আগের মত
তালপাতার ছাউনি থাকবে না।
থাকবে তুমি, থাকব আমি আর একটুখানি সুখ।