গভির পূর্ণিমা রাত্রি।
আমি জেগে আছি।
তুমি কি জেগে আছ?
হয়তো আছ,
নয়তো বা নেই।
চারিদিকে ঝিঁ-ঝিঁ পোকা
ডেকে চলেছে অবিরাম।
নিশাকর মেলেছে তার মায়াজাল
সমগ্র ধরিত্রী ব্যাপি।
হিম মাখা সমীর এসে
আমি জেগে আছি।
তুমি কি জেগে আছ?
হয়তো আছ,
নয়তো বা নেই।
চারিদিকে ঝিঁ-ঝিঁ পোকা
ডেকে চলেছে অবিরাম।
নিশাকর মেলেছে তার মায়াজাল
সমগ্র ধরিত্রী ব্যাপি।
হিম মাখা সমীর এসে
জড়িয়ে ধরে সমস্ত শরীর।
নির্জন এই রজনীতে
চুপ-চাপ বসে আছি
ভাবছি অঙ্গনা শুধু তোমারি।
তুমি কি ভাবছ আমারি?
নাকি আনমনে খেলা করছ
কাল্পনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।
তুমি কি গভীর ঘুমে নিমজ্জিত?
নাকি অন্ধকারের ভিতরেও
চোখ চেয়ে আছ উপরে।
নাকি চুপ করে বসে আছ
জলন্ত প্রদীপটা সামনে নিয়ে।
তুমি কি কাগজ-কলম হাতে নিয়েছ?
লিখছো আমাকে চিঠি,
নাকি আঁকছো ছবি
আমাদের বাসর রাত্রির।
নাকি বইয়ের পাতায় চোখ রেখেছ
তবুও পড়ছ না কোন পড়া,
স্মৃতিপটে ভাসছে আমার মুখচিত্র
নাকি ধমাধম পড়ছ
ইতিহাস আর পৌরনীতি,
মিথ্যে করে আমার সকল
ভাবনার ছবি।
তুমি কি জান?
এখন আমি ভাবছি
তোমাকে নিয়ে এত কিছু।
তুমি কি জান?
কত সুখে আছি আমি
তোমাকে ছাড়া।
তুমি কি জান?
তোমাকে ভাবতে-ভাবতে
কেটে যাবে আমার এই রাত্রি।
তুমি কি জান?
তোমাকে না দেখে দেখে
আমার অন্তরটা শুকিয়ে গেছে।
তুমি কি জান?
তোমাকে নিয়ে আমার কল্পনার ইতিকথা।
তুমি কি জান?
তোমাকে নিয়ে এই বুকে কত আশা
কত স্বপ্ন দু'চোখে।
তুমি কি জান?
তোমারি বিরহে অস্থির আমি,
অসহ্য যন্ত্রনায় ভুগছি।
তুমি কি জান?
বইয়ের পাতায় চোখ মেললে
দেখতে পায় তোমার মুখ-ছবি,
মনটা ছটফট করে ওঠে
কাছে পেতে তোমারি।
তুমি কি জান?
বিরহ বেদনায় আমারি অশ্রুজল
গড়ায় চোয়াল বরাবর।
তুমি কি এসবের কিছুই জান না?
হয়তো সবি জান,
হয়তো বা কিছুই জান না।
এখন তুমি কি করছ?
হয়তো পড়ছো একটা চিঠি
যেটা লিখেছিলাম আমি,
নয়তো পড়ছো এই কবিতা
যার শিরোনাম "তুমি"।
নক্ষত্র গুলো ঝিকমিক করল,
যেন সব একসাথে।
হঠাৎ করে পেচার কর্কশ ডাক শুনি,
চমকিয়ে উঠি, ভয় পেলাম বুঝি।
হাতঘড়ির পিক-পিক শব্দে
নজর গেল তার দিকে সব কিছু ফেলে
দেখি, রাত্রি তিনটা।
ঘরে গেলাম ঘুমাতে।
কিন্তু চোখের দু'পাতা এক হতে চায় না,
কষ্টে এ পাশ-ও পাশ করি।
সুধাকর সাক্ষী,
তাকে সুধালে জানা যাবে
কি ঘটেছিল বাকি রাত্রি।
আর জানে ঐ অন্তর্যামী,
জানে সারা রাত্রি।